মূল আলোচনা
প্রোগ্রামিং বা কোডিং শব্দটি শুনলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে কত শত আজব আজব লিখা আর অক্ষর ও বর্ণের সমাবেশ। যেগুলোর প্রায় ৯৯ টাই আমাদের আমাদের মাথার উপর দিয়ে, কানের গোড়া দিয়ে চলে যায়। আর মনের মধ্যে একটা ধারনা জন্মে, কি কঠিন জিনিস বাবারে ! কিন্তু যারা পারে, তাদের নিকট মনে হয় কি সহজ। আসলে প্রোগ্রামিং বা কোডিং জিনিসটা পানির মত সহজ আর মজার। এই প্রোগ্রামিং বা কোডিং এর জগতটা বিশাল, এখানে রয়েছে নানান রকমের সেক্টর। একেক সেক্টর একেক কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ HTML, CSS, JAVASCRIPT, PHP, BOOTSTRAP, C++, JAVA ও JQUERY। এগুলো সব কিন্তু জাস্ট ওয়েবসাইটের জন্যই ব্যবহৃত হয় না, অনেকগুলো আবার সফটওয়্যার ও মোবাইল এপ্লিকেশন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আজকে আমরা এদের সম্পর্কে জানবো ও তাদের ব্যবহারবিধি জানবো।
১. এইচটিএমএল (HTML)
এইচটিএমএল (HTML) এর পূর্ণরূপ হলো Hyper Text Markup Language. এটি একপ্রকার মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ, অর্থাৎ গাঠনিক কোড। এই ভাষায় মূলত পৃথিবীর প্রায় সকল ওয়েবসাইট গঠন করা হয়ে থাকে। যদি ওয়েব ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্টকে একটি বিল্ডিং এর সাথে তুলনা করি, তাহলে এইচটিএমএল হলো রড, সিমেন্ট ও ইট। অর্থাৎ ওয়েবসাইট এর সকল কিছু গঠন করা হয় এইচটিএমএল দিয়ে। অনেকে একে সকল প্রোগ্রামিং এর ভিত্তিও বলে থাকে।
My Bangla
২. সিএসএস (CSS)
সিএসএস (CSS) এর পূর্ণরূপ হলো Cascading Style Sheet. অর্থাৎ ওয়েবসাইট এর ডিজাইনিং কোড। সিএসএস এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ওয়েবসাইট এর কোন স্থানটি দেখতে কিরকম হবে বা কোন ডিজাইন এর হবে তা নির্ধারণ করি। এইচটিএমএল আমরা নির্দেশ করি কোথায় কি বসবে, আর সিএসএস দিয়ে সেই নির্দেশিত স্থানটি ডিজাইন করি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে যদি এইচটিএমএল হয় বিল্ডিং এর রড সিমেন্ট বা বালু, ত্তাহলে সিএসএস হবে রঙ ও টাইলস। ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে এইচটিএমএল এর পরেই সিএসএস এর স্থান। কেবলমাত্র এইচটিএমএল দিয়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করা কষ্টসাধ্য। তাই প্রয়োজন হয় সিএসএস এর।
৩. জাভাস্ক্রিপ্ট (Javascript)
জাভাস্ক্রিপ্ট (Javascript) হলো এক ধরনের স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ যা কিনা ব্যবহৃত হয় ওয়েবসাইট এর প্রতিটি বিষয়কে জীবন্ত করে তুলবার জন্য। এই জাভাস্ক্রিপ্ট ভাষায় যেই কোডগুলি লিখা হয় তাদেরকে বলে স্ক্রিপ্ট। এই জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে ওয়েবসাইট এর প্রতিটি বিষয়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালনা করা যায়। যেমন, কোন ওয়েবসাইট এ একটি ঘড়ি বা দিন তারিখ দেখানো বা অন্যান্য যেকোনো তথ্য, যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় ইত্যাদির জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহৃত হয়। আবার ওয়েবসাইট থেকে কোন তথ্য খুজে বের করা বা কোনো হিসাব নিকাশ করার জন্যও এই জাভাস্ক্রিপ্ট প্রয়োজন পড়ে। মূলত জাভাস্ক্রিপ্ট ওয়েবসাইট এর সকল পরিবর্তনশীল তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদি সিএসএসকে রঙ আর টাইলস এর সাথে তুলনা করি, তবে জাভাস্ক্রিপ্ট হলো ফ্যান, লাইট, পাম্প, টিভি ইত্যাদি।
৩. বুটস্ট্রাপ (Bootstrap)
বুটস্ট্রাপ (Bootstrap) হলো একটি নান্দনিক ও আধুনিক সিএসএস ফ্রেমওয়ার্ক বা লাইব্রেরি যা কিনা ওয়েবসাইট এর ডিজাইনকে আরো সুন্দর ও সহজ করে দিয়েছে। এই বুটস্ট্রাপ এর মধ্যে রয়েছে সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্ট এর এক বিশাল সমাবেশ, যেখান থেকে কেউ সহজেই তার ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারে। বিষয়টা আরেকটু সহজ করে বলি, আমরা যখন আমাদের ওয়েবসাইটে একটা বাটন, ফর্ম, পোস্ট, স্লাইডশো, লিংক ইত্যাদিকে ডিজাইন করতে চাই, তখন আমাদেরকে এদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা করে সিএসএস কোড লিখতে হয়। কিন্তু আমরা যদি বুটস্ট্রাপ ব্যবহার করি, তাহলে আমাদেরকে এদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে কোড লিখতে হবে না। কেবল বুটস্ট্রাপকে বললেই হবে, সে ওই জিনিষটাকে ডিজাইন করে দিবে। অর্থাৎ বুটস্ট্রাপ এর মধ্যেই সকল ডিজাইন কোড (সিএসএস) পূর্বে থেকেই করা থাকে। আজকাল বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই বুটস্ট্রাপ ব্যাবহার করে সময় বাচানো ও সহজেই কাজ করার জন্য। এটা শেখা সিএসএস এর মতোই সহজ। বুটস্ট্রাপ কেবল সিএসএস না, জাভাস্ক্রিপ্ট এর কাজও করে থাকে। বুটস্ট্রাপকে বিল্ডিং এর সাথে তুলনা করা যায় না, একে করা যায় ফ্ল্যাট রেডী এপার্টমেন্ট এর সাথে।
৫. পিএইচপি (Php)
পিএইচপি (PHP) এর পূর্ণরূপ হলো Personal Home Page. এটা প্রোগ্রামিং জগতের অন্যতম ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষা। এটা মূলত একটি ক্লায়েন্ট সাইড সিস্টেম ভাষা যার মাধ্যমে কেউ তার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়ঃ আমরা কোন ওয়েবসাইট এ গিয়ে নিবন্ধন করি, আবার লগইন করি, আবার রেজাল্ট দেখি ও বিভিন্ন একাউন্ট খুলে কাজ করি। এই সবই হলো পিএইচপি এর কাজ। অর্থাৎ আমাদের সকল তথ্য জমা থাকে সার্ভারে এবং এই তথ্য জমা, গ্রহন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সবই হয়ে থাকে পিএইচপি এর মাধ্যমে। পিএইচপি দিয়ে ফেসবুক, ওয়ার্ডপ্রেস ও উইকিপিডিয়ার মতো বর বড় সাইট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পিএইচপি বলতে বোঝানো হয় , Php : Hypertext Processor. পিএইচপিকে তুলনা করা যেতে পারে অফিস এর সাথে, যেখানে সকল তথ্য জমা থাকে।
৬. সি++ (C++)
সি++ হলো খুবই শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামিং ভাষা যা দিয়ে এমন কোন সফটওয়্যার নেই যা তৈরি করা যায় না। এটি একটি ইন্টারনাল প্রোগ্রামিং ভাষা যা কম্পিউটারের সকল কমান্ড বুঝতে ও পড়তে পারে এমনকি কম্পিউটারকে কমান্ড ও করতে পারে। এটির মাধ্যমে সব ধরনের এপস, গেমস ও সফটওয়্যার তৈরি হয়। এটি কম্পিউটার ও মেমোরির ডেটা সহজেই ধারন করতে পারে। এমনকি এটি খুবই সহজ কেননা এই ভাষা গাণিতিক যুক্তি ও লজিক মেনে চলে। এর ভাষায় অনেক লাইব্রেরী আছে যার মাধ্যমে প্রোগ্রামাররা প্রোগ্রাম লিখতে সুবিধা পায়। C#, C++ ইত্যাদি হলো C প্রোগ্রামিং এর আধুনিক রূপ। সি++ দিয়ে গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজন, ইবে, আইস্টকফটো, এডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ও উবারের মতো বড় বড় সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়াও আরো অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ বা ভাষা রয়েছে যা কিনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয় যেমন;
- জাভা (Java)
- পাইথন (Python)
- নোড জাভাস্ক্রিপ্ট (Node Js)
- পার্ল (Perl)
- ওরাকল (Oracle)
- ভিজুয়াল বেসিক (Visual Besic)
- এলগল (Algol)
- ফোর্টরান (Fortrun) ইত্যাদি ।
* মূলত ওয়েব ডেভেলপার হতে সাধারণত প্রয়োজন ৪টি ভাষার।
১. প্রথমত HTML দিয়ে ওয়েবসাইট এর গঠন তৈরি করতে হবে।
২. অতঃপর CSS দিয়ে ডিজাইন বা নকশা করতে হবে।
৩. তারপর Javascript দিয়ে ভিতরের প্রোগ্রাম বা সিস্টেমকে স্বয়ংক্রিয় করে তুলতে হবে।
৪. সর্বশেষ Php এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
জাস্ট এই কয়েকটা ভাষা শিখলেই আপনি মোটামুটি ভালো মানের একজন ওয়েব ডেভেলপার ও ডিজাইনার হতে পারবে।
তুমি চাইলে এখানেই করে ফেলতে পারো তোমার পছন্দের যেকোনো একটি কোর্স কেবলমাত্র নিবন্ধন এর মাধ্যমে। তাহলে আর দেরি কেন? এখনই নিবন্ধন করে ফেলো আর এগিয়ে যাও তোমার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথে আরো একধাপ।
Doc Written by : Md.Ibrahim


তোমার মতামত জানাও:
0 comments: