ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহকে স্মরণ করুন
_



দিন
ঘণ্টা
মিনিট
সেকেন্ড

      100 Class Academy

ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি ও তার বিধি বিধান, আদেশ নিষেধ

মূল বিষয়

"কোরবানি" ইসলামের ৫ম স্তম্ভ হজ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও মুসলমানদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলমানদের জাতিরপিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তার পুত্র ইসমাইল (আঃ) এর জীবনের এক ঐতিহাসিক ঘটনা থেকেই কোরবানির সুত্রপাত ঘটে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিতা বজায় থাকবে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। আমরা আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করি আর তিনি আমাদেরকে এর বিনিময়ে সওয়াব দেন। জীবনের প্রতিটি বিষয় যেমন একটি নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে চলে, ঠিক ইসলামও এই কোরবানির কিছু নিয়ম নীতি ও বিধি নিষেধ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যেগুলো একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে, আমরা এর অনেকগুলি জানিও না। আর কিছু জানলেও মানি না। যার কারনে আমাদের অনেকের কোরবানি কবুলও হয় না (ভাষ্যমতে)। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে ? এত কষ্ট করে টাকাপয়সা খরচ করে কোরবানি দিলে যদি তা কবুলই না হয়, তাহলে আর কোরবানি করে লাভ কি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক কি কি কারনে আমাদের কোরবানি হয় না বা কিভাবে করলে কোরবানি শরিয়ত অনুযায়ী হবে।


কোরবানির নিয়ম নীতি ও বিধি নিষেধ :


১. কোরবানি কেবলমাত্র আল্লাহর নামেই হতে হবে, অন্য কারো নামে হলে হবে না। বলা হয়েছে, (حرامم ذبيحة لم تذك) | যেমন, অনেকে বলে "এটা আমার বাবার নামে" আবার অনেকে বলে, "হুজুর, কোরবানির সময় অমুকের নাম, তমুকের নাম ইত্যাদি বলবেন" এসব ব্যক্তির নামে কোরবানি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। এটা হতে হবে কেবল আল্লহর নামেই। আর স্বাভাবিক দৃষ্টিতে চিন্তা করলে আপনিও বুঝবেন যে, এটা এক প্রকার শরিক। কেননা কোরবানি দেওয়ার নিয়ম আল্লাহর নামে, আপনার বাবার-মায়ের নামে না। আপনি হয়তো বলতে চাইবেন যে, তাদের না উল্লেখ করা বলতে বোঝানো হয়েছে তাদের নসিবে যেন এর সওয়াব যায়। আরে ভাই, এজন্য আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করে বলবেন যে "হে আল্লাহ, এই কোরবানির সওয়াব জেনো আমার বাবা মায়ের নিকট যায়", তাহলেই হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহ তো সকলের অন্তর্যামী, তিনি তো আপনার মনের কথা বোঝেন। তাই অনর্থক এই কাজগুলি না করাই ভালো।

২. হারাম পয়সায় কোরবানি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা যারা ৪-৫ জন মিলে কোরবানি দেয়, তাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এদের মধ্যে কেউ যদি ঘুষখোর, সুদখোর, হারামখোর বা জুলুমবাজ হয়, তবে বাকীদের কোরবানিও হবে না। এমনকি যেই টাকা অংশীদার হিসেবে দিচ্ছে, তার মধ্যে একজনের টাকা হারাম হলেও তা হবে না। কেননা হাদিসে আছে (لا يدخل الجنت غضي بالحرام), "হারাম ভক্ষণকারীর শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না"। এটা জানার পরেও কিভাবে আপনি হারামখোর এর সাথে কোরবানি দিয়ে নিজের কোরবানি নষ্ট করবেন ? অনেকে বলতে পারে যে,আমি তো জানি না যে তার টাকা হালাল নাকি হারাম, হ্যা এজন্য আপনাকে আগে ভালো করে খোজ খবর নিয়ে দেখতে হবে যে আপনার সাথী, যার সাথে কোরবানি দিচ্ছেন তার উপার্জন কি হালাল না হারাম। নইলে কিন্তু আপনার কোরবানি হবে না, কেবল গোস্ত খাওয়াই হবে। আরে ভাই, আপনার আত্নসম্মান নাও থাকতে পারে, বেচারা গরুর তো আছে।

৩. কেউ যদি কোরবানির গরু কেনার পরে আফসোস করে আর বলে, "ইশ ! গরুটায় লস খাইছি / গরুটা কিনে লাভ হয় নাই" তাহলে তার কোরবানি হবে না। আচ্ছা লস খাওয়া বলতে আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন ? অবশ্যই বেশি দামে ছোট গরু কিনেছেন বা গোস্ত কম হবে বোঝাতে চেয়েছেন। আপনি কি গরু কিনেছেন গোস্ত খাওয়ার জন্য ? নাকি আল্লাহকে খুশি করাতে ?। তাহলে জেনে রাখুন, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন (لن ينال الله لحومها ولا دما ئها ولاكن يناله التقوا منهم), "অর্থাৎ আল্লাহর নিকট তোমাদের জবাইকৃত পশুর গোস্ত,রক্ত এগুলোর কিছুই যায় না, যায় কেবল তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়"। এটা জানার পরেও কি আপনি গরু কিনে আফসোস করবেন। আপনাকে যদি কেউ বলে যে, ভাই গরু কেমন হইছে ? আপনি বলবেন আলহামদুলিল্লাহ। এতে আপনিও ভালো থাকবেন এবং আল্লাহও খুশি হবেন। আর গরু আগে দেখেশুনে কিনবেন, কেনার পরে আফসোস করবেন না।

৪. যারা সমাজের লোকচক্ষুর ভয়ে বা সমালোচনার ভয়ে বড় গরু কিনে বা তার প্রেস্টিজ / যশ খ্যাতি যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য বড় গরু কিনে, তাদের কোরবানি হবে না । দেখুন, আল্লাহ তায়ালা অধিক আত্নমর্যাদাসম্পন্ন। তিনি কখনো লোক দেখানো কাজ পছন্দ করেন না। আরে সাধারণ মানুষ, আপনি আমিই তো লোকদেখানো কাজ করাদেরকে দেখতে পারি না, আর এক্ষেত্রে আপনি আল্লাহর ইবাদতে এসব করছেন। এই লোকদেখানো কাজকে বা ইবাদতকে ইসলামের দৃষ্টিতে বলে "রিয়া বা ছোট শিরক"। যেখানে কোরবানি করে আপনি সওয়াব অর্জন করবেন, সেখানে কেনো এসব কাজ করে গুনাহগার হবেন। আমি বলি কি ভাই, আপনার না কোরবানিরই দরকার নেই। এতে করে তো অন্তত গুনাহ থেকে বাঁচবেন।

৫. গরু কিনে তাকে মালা পরিয়ে, ফুল লাগিয়ে আর গায়ে দামের সীল ঝুলিয়ে গরু নিয়ে আসা হারাম। এটা কি বিয়ের কনে নাকি বর‍ যে এটাকে এরকমভাবে আনবেন। এটা আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত পশু। তাই একে এইরকম সাজিয়ে হারাম করবেন না।

৬. ৪-৫ জন মিলে কোরবানি দিলে গোস্ত ভাগ করার সময় সবাই সমান ভাগ পেতে হবে। কেউ কম বা বেশী পেলে অন্যদের কোরবানিও হবে না।

৭. কোরবানিরর পশুর চামড়া বিক্রি করা জায়েজ নয়। এটিকে কোনো এতিমখানা বা অন্যত্র দান করে দিতে হবে। কেউ চাইলে এটি বিক্রি করে তার টাকা গরীব মিসকিনদের দিতে পারবে।

৮. জবাইকারিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে।


কোরবানির আরো কিছু নিয়মাবলী :


কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি:

  • মুসলমান হতে হবে।
  • স্বাধীন হতে হবে।
  • মুকিম হতে হবে।
  • নিসাব পরিমান অর্থ থাকা।
  • কুরবানির দিন উপস্থিত হতে হবে।

কুরবানির সময়সীমা:

১০ই জিলহজ্জ সুবহে সাদিকের পর থেকে অর্থাৎ সূর্যোদয় এর পর থেকে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। রাতে কোরবানি করা মাকরুহ।


কোরবানির পশু:

  • উট - কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে।
  • গরু / মহিষ - কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • ভেড়া / দুম্বা / ছাগল - ১বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • কানা, ল্যাংড়া, শিং ভাঙা, লেজকাটা ইত্যাদি সমস্যাযুক্ত প্রাণী দ্বারা কোরবানি মাকরুহ।

সবকথার শেষকথা, কোরবানি করবেন। কেননা রসূল (সাঃ) বলেছেন "যেই ব্যক্তি কোরবানি করবে না, সে যেন ঈদগাহে না আসে"। তাই আমাদের সকলের উচিৎ কোরবানি করা,অন্তত একটি ছাগল বা বকরি হলেও। আর হ্যা, খাটি নিয়তে ও বিধিবিধান মেনে।

কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন

Sources:
Al Quran, Al Hadih, Tanvirul Mishkath, Tanvirul Kefayah Fee Sarhil Wekayah.

এই পোস্টটি শেয়ার করে অপরকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন, এতে আপনার সওয়াব হবে।

Doc Written by : Md Ibrahim



শেয়ার
Banner

100 Class Academy

তোমার মতামত জানাও:

0 comments: